বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন পুরোদমে। রাজনৈতিক সমীকরণ ঘনিয়ে আসছে ভোটের আগে। বিজেপি জোটকে উৎখাতের ডাক দিয়ে যখন আরজেডি-সহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোট রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার জোরদার করছে, তখন হঠাৎই বড় চমক দিল আম আদমি পার্টি (AAP)। সোমবার নির্বাচন কমিশন বিহার বিধানসভা ভোটের তারিখ ঘোষণা করতেই, সেই দিনই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল কেজরিওয়ালের দল।
এতেই কার্যত স্পষ্ট—বিহারে বিজেপি-বিরোধী জোট ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্সের সঙ্গে নেই আপ। বরং স্বাধীনভাবে লড়াইয়ের ঘোষণা করে দল জানিয়ে দিল, ২৪৩টি বিধানসভা আসনেই নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করাবে তারা।
### **প্রথম তালিকায় ১১ প্রার্থী, নজরে বেগুসরাই ও কিষাণগঞ্জ**
আম আদমি পার্টির বিহার শাখার তরফে সোমবারই প্রকাশ করা হয় প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা। এই তালিকায় রয়েছে মোট ১১ জন প্রার্থীর নাম। বেগুসরাই, কিষাণগঞ্জ, বাঁকিপুর ও ফুলবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে আপ জানিয়ে দিল—তারা এবার বিহারে “পুরো শক্তি নিয়ে” ময়দানে নামছে।
দলের বিহার রাজ্য সভাপতি বলেন, *“বিহারে মানুষ বিকল্প চায়। দুর্নীতি, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সংকট থেকে মুক্তি চায়। দিল্লি ও পাঞ্জাবের মতো বিহারেও আপ সেই বিকল্প হতে চায়।”*
### **বিজেপি-বিরোধী ভোটে বিভাজনের আশঙ্কা**
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আম আদমি পার্টির এই পদক্ষেপের ফলে বিরোধী ভোট বিভক্ত হতে পারে। কারণ, আপও নিজেদের প্রচারে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছে। ফলে, বিজেপি-বিরোধী ভোট এক জায়গায় না গিয়ে ভাগ হয়ে যেতে পারে বিভিন্ন ছোট দলের মধ্যে। এতে লাভ হতে পারে শাসক জোটের।
যদিও ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা এখনই কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। আরজেডি বা কংগ্রেস কারও তরফেই আপের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
### **কেন ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে নয়?**
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি ও পাঞ্জাবে কংগ্রেসের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে আপের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের সম্পর্ক অনেকদিন ধরেই তিক্ত। সেই প্রভাবই পড়েছে বিহার নির্বাচনে।
অন্যদিকে, আপের ভিতরে একাংশের মতে, “ইন্ডিয়া জোটে থেকে প্রভাবশালী হওয়া সম্ভব নয়, বরং স্বাধীনভাবে লড়লে রাজ্যে নিজেদের সংগঠন বাড়ানোর সুযোগ বেশি।”
### **বিহারে আপের ভবিষ্যৎ?**
বিহারে আম আদমি পার্টির প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও, দলটি এবার সংগঠন বাড়াতে মরিয়া। স্থানীয় স্তরে শিক্ষায় ও স্বাস্থ্যসেবায় “দিল্লি মডেল” তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
রাজনৈতিক মহল বলছে, আপের লড়াই সরাসরি ক্ষমতার নয়, বরং নিজেদের ভবিষ্যতের জমি তৈরি করা। বিহারের তরুণ ভোটারদের মধ্যে যদি সামান্যও সাড়া ফেলে দল, তাহলে সেটাই ভবিষ্যতে তাদের মূলধন হয়ে উঠতে পারে।
### **ভোটের ময়দানে তিনমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত**
সব মিলিয়ে, বিহার ভোটে এবারের চিত্র ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ, অন্যদিকে আরজেডি-কংগ্রেস-জেডিইউ-সহ ইন্ডিয়া জোট, আর এখন স্বাধীন শক্তি হিসেবে আপের প্রবেশ—এ যেন তিনমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজেপি-বিরোধী ভোটের ভাগাভাগিতে কাকে কতটা ক্ষতি হবে, আর কে লাভবান হবে—তা এখন দেখার বিষয়।









