লোথার ম্যাথাউজের হাত ধরে শুরু হতে চলেছে “বেঙ্গল সুপার লিগ” — বাংলার ফুটবলে নতুন সূর্যোদয়ের স্বপ্ন**
নভোনীল দে, কলকাতা : বাংলার ফুটবল জগতে নতুন ইতিহাস রচনার পথে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। শুক্রবার কলকাতায় একটি অভিজাত হোটেলে (জার্মানি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে) আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো বহু প্রতীক্ষিত **“বেঙ্গল সুপার লিগ” (Bengal Super League)**-এর সূচনা। আর এই লিগের **ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর** হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার, ১৯৯০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক **লোথার ম্যাথাউজ** (Lothar Matthäus)-এর।

শ্রাচী স্পোর্টস গ্রুপ (Shrachi Sports Group), যারা দীর্ঘ ছয় দশক ধরে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে, তারা এবার বাংলার মাটিতে ফুটবলের পুনর্জাগরণের অঙ্গীকার নিয়ে আসছে এই নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক প্রতিযোগিতা। চলতি বছরের শেষ দিকেই শুরু হবে এই মরসুমের প্রথম আসর, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিত্বকারী **আটটি দল** অংশ নেবে। ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে **চারটি জেলা শহরে**, যাতে রাজ্যজুড়ে ফুটবলের জোয়ার বইয়ে দেওয়া যায়।
এই নতুন উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটাই — **জেলা থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের সামনে বৃহত্তর মঞ্চ তৈরি করা**। সংগঠকরা বিশ্বাস করেন, বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যেই ভবিষ্যতের ভারতীয় ফুটবলের প্রাণশক্তি লুকিয়ে রয়েছে
ম্যাথাউজের বার্তা: “বাংলা ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত”
জার্মানি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে লোথার ম্যাথাউজ বলেন,“ভারতীয় ফুটবলের সম্পর্কে আমার সীমিত ধারণা আছে, তবে জানি — ভারত ফুটবলপ্রেমী একটি দেশ। বিশেষত, বাংলা ফুটবলের ঐতিহ্য সারা বিশ্বে সমাদৃত। আমি গর্বিত যে, বাংলার ফুটবলের উন্নতির পথে আমার ভূমিকা থাকবে। আগামী মাসে কলকাতায় আসছি, সেখানকার ফুটবলের পরিবেশকে কাছ থেকে দেখব, এবং যেভাবে পারি, উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেব।”
১৯৯০ সালের **ব্যালন ডি’অর**-জয়ী এই মহাতারকা এর আগেও ভারতে এসেছিলেন। এবার তিনি স্থায়ীভাবে যুক্ত হতে চলেছেন ভারতের ফুটবলের এক নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তারকাদের মিলনমেলা
এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে বসেছিল ফুটবল তারকাদের মিলনমেলা। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার ও কোচ **ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়**, **বিকাশ পাঁজি**, **বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য**, **সঞ্জয় সেন**, **মিহির বসু**, প্রাক্তন বিদেশি তারকা **সুলে মুসা**, এবং ভারতীয় ফুটবলের পরিচিত মুখ **অ্যালভিটো ডিকুনহা**, **মেহেতাব হোসেন**, **দীপক মণ্ডল**, **রহিম নবী**, **অসীম বিশ্বাস**, প্রমুখ।
ফুটবলের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা বলেন, “এই লিগের মাধ্যমে বাংলার ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা আসবে। মাঠে দর্শক ফিরবে, আর জেলা থেকে উঠে আসবে পরবর্তী প্রজন্মের তারকা।”
ভারত-জার্মান ফুটবল সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন
শ্রাচী স্পোর্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর **রাহুল টোডি** জানান, লোথার ম্যাথাউজকে অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত করা শুধুমাত্র সম্মানজনক পদক্ষেপ নয়, এটি ভারত-জার্মান ফুটবল সম্পর্ককেও আরও মজবুত করবে।
তিনি বলেন,একটা সময় ছিল যখন ভারতীয় ফুটবল মানেই ছিল বাংলা। আমরা সেই গৌরব ফেরাতে চাই। বেঙ্গল সুপার লিগের খেলোয়াড়রা শুধুমাত্র ভারতের নয়, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধাও পাবেন। ভবিষ্যতে জার্মানিতে বিশেষ ট্রেনিং ক্যাম্পের সুযোগ দেওয়া হবে প্রতিভাবান ফুটবলারদের।”
তিনি আরও যোগ করেন,“বিএসএল শুধু একটি লিগ নয়, এটি একটি *দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা**। আমাদের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরে বাংলাকে আবার ভারতের ফুটবল মানচিত্রের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।”বাংলার ফুটবল বহু দশক ধরে ভারতীয় ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র। সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক ছোঁয়ায় নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার এক প্রয়াস হলো এই **বেঙ্গল সুপার লিগ**।
যেখানে জেলার মাটিতে জন্ম নেওয়া স্বপ্ন একদিন পৌঁছে যাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
আর এই যাত্রার সূচনা হলো জার্মান কিংবদন্তি **লোথার ম্যাথাউজের হাত ধরে** — এক নতুন ফুটবল অধ্যায়ের দিগন্তে।









