আফগানদের সাথে লড়াইয়ে জিতল ছেলে, মৃত্যুর কাছে হার মানলেন বাবা। এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বে বাংলাদেশ খেলতে পারবে কি না তা নির্ভর করতে ছিলো আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কার ম্যাচের ওপর। এমন ম্যাচে সমীকরনের মার প্যাচে ভাগ্য নির্ধারন ছিলো তিন দলেরই। এই জটিল আংকের পেছনে শ্রীলঙ্কার ২০তম ওভার কাল হয়ে আসে। শ্রীলংকার উদীয়মান ক্রিকেটার দুনিথ ওয়েলালাগের সেই ওভারে ৩২ রান দেন, তাতে আফগানরা সংগ্রহ পায় ১৭০ রানের। শ্বাসরুদ্ধ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে ওঠে শ্রীলঙ্কা। তবে ওয়েলালাগের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর বাবা সুরাঙ্গা ওয়েলালাগে ছেলের মন্থর বোলিং দেখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালীন। কলম্বোতে বসে টেলিভিশনে ম্যাচটি দেখছিলেন দুনিথ ওয়েলালাগের বাবা। খেলার এক পর্যায়ে আফগান তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ নবি দুনিথের শেষ ওভারে টানা পাঁচটি ছক্কা হাঁকান। ছেলের বোলিংয়ের এই ধাক্কা মেনে নিতে না পেরে তীব্র মানসিক চাপে ভুগতে থাকেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুরাঙ্গা বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি।
এই মর্মান্তিক সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র ২১ বছর বয়সী স্পিন অলরাউন্ডার দুনিথ ওয়েলালাগে বর্তমানে জাতীয় দলের অন্যতম আশার প্রতীক। তাঁর বাবার এমন আকস্মিক প্রয়াণে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।এদিকে ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ১৭০ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করে। মাত্র ছয় উইকেট হারিয়ে এবং আট বল হাতে রেখে জয় পায় লঙ্কানরা। কিন্তু মাঠের সাফল্যের উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে গেছে ওয়েলালাগে পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি।
উল্লেখ্য, সুরাঙ্গা ওয়েলালাগেও নিজে একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রিন্স অব ওয়েলস কলেজ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলেছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ক্রিকেট সার্কেলে যুক্ত ছিলেন এবং ছেলের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।









