অ্যাপ ক্যাবের আগমনের পর থেকেই ধাক্কা খেতে শুরু করেছিল কলকাতার চিরচেনা হলুদ ট্যাক্সি, আর এবার মেট্রোর বিস্তৃতি—বিশেষত হাওড়া, শিয়ালদহ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ায়—তাতে যেন শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল তার কফিনে। এক সময়ের গর্ব, কলকাতার নস্টালজিয়া, শহরের আইকনিক পরিচয় বহনকারী এই হলুদ ট্যাক্সিগুলি এখন কার্যত অস্তিত্বের সংকটে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ ক্যাবের দাপটে পিছিয়ে পড়লেও হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বিমানবন্দর প্রিপেড বুথ ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের যাত্রীদের ওপর ভরসা করে কোনওরকমে গাড়ির চাকা গড়াচ্ছিল, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই সেখানেও যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। এখন মূলত অধিক রাতে দূরপাল্লার ট্রেনে ফেরা কিছু যাত্রীই ট্যাক্সির দিকে ঝুঁকছেন, যা দিয়ে সারাদিনের খরচ কোনওভাবেই তোলা সম্ভব নয়—ফলে চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশই গভীর হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সত্যিই শেষ হয়ে যাচ্ছে কলকাতার এক যুগের প্রতীক, এই হলুদ ট্যাক্সির যাত্রা? বছর দশেক আগেই অ্যাপ ক্যাবের দাপটে শহরে তাদের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছিল। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ভাড়ার নামে চালকদের জুলুমবাজি, মিটারে যেতে অনীহা, পুরনো-ভাঙা গাড়ির অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা—যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছিলেন, আর অ্যাপ ক্যাবের সাচ্ছন্দ্য ও নির্ভরযোগ্যতা সহজেই তাদের মন জিতে নিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, বিমানবন্দর ও বড় স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখন পর্যন্ত হলুদ ট্যাক্সির একটা প্রয়োজন ছিল, কারণ এসব জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা ‘চটজলদি’ পৌঁছে যেতে পারতেন তাদের গন্তব্যে। কিন্তু ধর্মতলা হয়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত মেট্রোর পথ সম্প্রসারিত হওয়ায় সেই ভরসাটুকুও আর থাকছে না। এখন যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমেই মেট্রোয় উঠে এসির হাওয়ায় আরাম করে সস্তায় পৌঁছে যাচ্ছেন তাদের ঠিকানায়। ফলে স্ট্যান্ডে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও যাত্রী পাচ্ছেন না হলুদ ট্যাক্সির চালকরা, তাঁদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে শহরের পথে একদিন আর দেখা যাবে না এই নস্টালজিক ট্যাক্সিগুলিকে, যা এক সময় কলকাতার গর্ব ছিল।









