চৈত্র মাসে বারুনির মেলায় ঠাকুরবাড়িতে ভিড় দেখা ঠাকুরনগরের মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়। বরং এই সময়টায় মতুয়া ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আবেগ এবং উৎসবের উন্মাদনায় ঠাকুরবাড়ির চত্বর জেগে থাকে গমগমে জনসমাগমে। কিন্তু বর্তমানে সেই বারুনির মেলাও নেই, মতুয়াদের কোনও বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানও নেই — তবুও প্রতিদিন ভোর চারটে থেকে গভীর রাত অবধি ঠাকুরবাড়িতে চোখে পড়ছে অস্বাভাবিক ভিড়, যেন কোনও অজানা টানেই মানুষ ছুটে আসছে। এই ভিড়ের মূল কারণ ‘সার’ বা SIR-এর আতঙ্ক, যা আসলে রাজ্যে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া হিসেবে মানুষের মনে তীব্র অনিশ্চয়তা এবং ভয় তৈরি করেছে। সেই আতঙ্ক থেকেই দলে দলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ঠাকুরবাড়িতে এসে ভিড় করছেন ‘মতুয়া কার্ড’ এবং ধর্মীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করতে, যা তাঁরা ভবিষ্যতের নাগরিকত্ব প্রমাণের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ভাবছেন। কিন্তু এখানেই ঘটেছে আরেক বিপত্তি — ওই মতুয়া কার্ড ইস্যু এবং তার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া ঘিরে ঠাকুরবাড়ির দুই ভাই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দুই ভাইয়ের বাড়ির সামনেই বসেছে কার্ড বিলির ক্যাম্প — চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার নিয়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠরা পরিচালনা করছেন পুরো কার্যক্রম, আর সেই ক্যাম্প ঘিরেই চলছে ভিড়, উৎকণ্ঠা আর বিশৃঙ্খলার চিত্র। আর এই গোটা হট্টগোলের মাঝখানে, যেন রাজনৈতিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের এক নিঃসঙ্গ সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের বাড়ি — দুই ভাইয়ের প্রভাব ও দখলের রাজনীতির মাঝখানে তাঁর অবস্থান যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যার চারপাশে তরঙ্গ উঠছে মতুয়া সমাজের ভবিষ্যৎ ও পরিচয় সংক্রান্ত দোলাচলে।
সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়া কার্ড তো সারা বছর ধরেই দেওয়া হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সার চালু হচ্ছে এ রাজ্যে। তাই ভিড়টা বেড়েছে।’ মমতাবালা বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুর ক্ষমতার জোরে সাধারণ মতুয়াদের বিভ্রান্ত করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নিচ্ছে। বহু পাগল, গোঁসাই এবং দলপতিরা শান্তনুর এই কাজের বিরুদ্ধে।’









