ব্যাট হাতে বাইশ গজে বিপক্ষ বোলারদের ত্রাস হয়ে ওঠা ঋষভ পন্থ কেবল একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটারই নন, বরং একজন অসাধারণ মানুষও বটে—এবার মাঠের বাইরের এক মানবিক দৃষ্টান্তে সেটাই আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি। ভারতীয় টেস্ট দলের সহঅধিনায়ক হিসেবে মাঠে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং, চারদিক দিয়ে বল পাঠিয়ে বাউন্ডারি পার করার ক্ষমতা এবং উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মনোসংযোগ নষ্ট করার জন্য তাঁর বিখ্যাত “চঞ্চলতা” যেমন তাঁকে অনন্য করে তোলে, ঠিক তেমনই মাঠের বাইরেও এক অভাবনীয় কাজে তিনি মন জয় করে নিলেন হাজার হাজার মানুষের। এক ভাঙা পা নিয়েই যখন তিনি সাহসিকতার সঙ্গে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে, তখন তাঁর জেদ, সংকল্প আর লড়াই করার মানসিকতা সকলকে অভিভূত করেছিল। এবার আরও একবার পন্থ দেখালেন, তিনি কেবল খেলার মাঠেই নয়, জীবনের ময়দানে মানবিকতার উদাহরণ হিসেবেও উজ্জ্বল। কর্নাটকের বিলাগি তালুকের রবকাভি গ্রামের এক মেধাবী ছাত্রী, জ্যোতি কানাবুর মাথ, যিনি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় ৮৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করেও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির মুখোমুখি হতে পারছিলেন না, তাঁর পাশে দাঁড়ালেন পন্থ। জ্যোতি কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে পড়তে চাইলেও পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এই মেধাবী ছাত্রীর স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেননি পন্থ। কোনও প্রচার ছাড়াই, নিঃশব্দে এগিয়ে এলেন তিনি, এবং মুহূর্তের মধ্যে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলেন কলেজে ভর্তির জন্য, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, একজন সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবে নয়, একজন সংবেদনশীল এবং দায়িত্ববান মানুষ হিসেবেও ঋষভ পন্থ কতটা মহান। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ এবং সহানুভূতির প্রকাশ সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা দিল, যেখানে নামী ব্যক্তিরা সবার সামনে না এসে নিঃশব্দে, নিঃস্বার্থভাবে ভালো কাজ করে যেতে পারেন—পন্থের এই কর্মকাণ্ড কেবল প্রশংসাযোগ্যই নয়, বরং অনুসরণযোগ্যও।









