সিঙাড়া-জিলিপি নিয়ে কেন্দ্রের নয়া ফতোয়াকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এই নির্দেশিকা ঘিরে প্রবল অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে যে, বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্য—যার মধ্যে সিঙাড়া ও জিলিপিও রয়েছে—এগুলির প্রস্তুতি ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যবিধি ও মানদণ্ড অনুসরণ করতেই হবে। কেন্দ্রের মতে, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং খাদ্যের গুণমান বজায় রাখতে এই নতুন নিয়মাবলি প্রয়োজনীয়। তবে এই নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার মানতে রাজি নয়। রাজ্যের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সিঙাড়া ও জিলিপি বাংলার ঐতিহ্যবাহী এবং আবেগঘন খাদ্যদ্রব্য, যা শুধুই স্বাদের নয়, বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হবে না। রাজ্যের খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তর জানিয়েছে, তারা নিজস্ব নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে থেকেই এই ধরনের খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ করবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের রক্ষা করেই চলবে। এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে উঠেছে, বিরোধীরা একে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, আবার অনেকেই বলছেন এটা আসলে বাংলা সংস্কৃতির উপর পরোক্ষ আঘাত। সবমিলিয়ে, সিঙাড়া-জিলিপি এখন আর শুধু মুখরোচক খাবার নয়, তা হয়ে উঠেছে রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক।









