বিশেষ প্রতিবেদন :
রথযাত্রা ও বৌদ্ধ ধর্মের সম্পর্ক
রথ দেখা আর কলা বেচা ছোট বেলা থেকেই এই প্রবাদের সাথে পরিচিত আপামর বাঙালি ।
রথের সাথে এসে যায় কাঠের নাগরদোলা, পাপর ভাজা, জিলিপি আর কাঁচের চুড়ি এই শব্দ গুলো । এর থেকে বেরিয়ে রথ নিয়ে খুব বেশি কিছু চিন্তা সাধারনের মাথায় খুব কমই আসে।
সময় গড়ায়, গড়ায় রথের চাকা ।
এই গড়িয়ে চলা চাকার ইতিহাস হয়তো জানে পথের প্রতিটি ধূলিকণা।
এমনই এক কথিত ইতিহাস সন্ধান করলে পাওয়া যায় এক আশ্চর্য তথ্য।
কথা হচ্ছে পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দিরের সম্পর্কে। কত মিথ, ইতিহাস, ধর্মীয় কাহিনী জড়িয়ে আছে এর সাথে ।
সম্রাট অশোকের চন্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে পরিণত হওয়ার কাহিনী আমাদের অজানা নয় ।উড়িষ্যা সেই সময় কলিঙ্গেরই অংশ ছিল ।কাজেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অশোক ও তার পরবর্তী রাজাদের প্রভাব সেখানে ছিল স্পষ্ট ।অনেক ঐতিহাসিক নজর রেখেছেন জগন্নাথ মন্দিরের দেওয়ালে,নানা চিত্রকর্ম সেখানে শোভা পাচ্ছে তারই মধ্যে বহু চিত্র ও কাজের সাথে বৌদ্ধ ধর্ম ও তন্ত্রের মিল আছে।
এখানেই শেষ নয়, ঐতিহাসিকরা চোখ রেখেছেন মন্দিরের বিগ্রহ ত্রয়ীর ওপরেও। এই বিগ্রহদের সাথেও বিশেষ মিল পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিগ্রহের অবয়ব বলতে চোখ নাক আর অর্ধচন্দ্রাকৃতি ওষ্ঠ ।বৌদ্ধ ধর্মের দিকে নজর দিলে তিনটি মূর্তির প্রসঙ্গ আসবে -বুদ্ধ, ধর্ম ,সংঘ ।
গবেষকদের মতে ভারতের যত হিন্দু দেবালয় বা মন্দির আছে তাদের কারোরই প্রবেশপথ পূর্ব দিকে নয় , একমাত্র পুরীর শ্রীক্ষেত্রের প্রবেশপথ পূর্বদিকে । এদিকে বৌদ্ধমঠ ও মন্দির গুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে সেখানেও সমস্ত প্রবেশ পথ পূর্বেই ।
আমাদের শাস্ত্রে বিষ্ণুর দশাবতারের যে বর্ণনা রয়েছে তার একজন হলেন বুদ্ধ ।জগন্নাথ মন্দিরের সাথে বৌদ্ধ ধর্মক্ষেত্রের একাধিক মিল অনেক কিছু নিয়ে আসছে আমাদের সামনে। সত্যি কি এমন অনেক অদেখা রয়েছে? আমাদের সাধারণের জানার আড়ালে কি লুকিয়ে রয়েছে বড় কোন ইতিহাস?
প্রশ্ন অনেক, গবেষণায় হয়তো ধীরে ধীরে মিলবে সব উত্তর ।হাজারো বছরের রহস্যের কাহিনী নিয়ে আজও জগন্নাথ মন্দিরের ধ্বজা উড়ে চলেছে অবিরাম , অবিচল ।
Piyali Mukherjee,- Headlines 24×7









