Kolkata : স্বাস্থ্যের পর এবার আইন । হাসপাতালের পর এবার কলেজ ।গত ২৫ শে জুন সন্ধ্যায় কলকাতার বুকেই এক পাশবিক গণধর্ষণের শিকার হল এক আইনের পড়ুয়া । ফিরে এলো প্রায় এক বছর আগের আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজের সেই ভয়াবহ ঘটনার অভিশপ্ত মুহূর্ত ।
তবে এবার ঘটনা একটু আলাদা , কারণ নির্যাতিতা নিজে অভিযোগ দায়ের করেছেন কসবা থানায় এবং নিজের মুখে বয়ান দিয়েছেন । অভিযোগ করা হয়েছে তিন জনের বিরুদ্ধে । মনোজিৎ মিশ্র ( কলেজের প্রাক্তনী এবং অস্থায়ী কর্মী )
প্রমিত মুখার্জী ( নির্দিষ্ট কলেজের বর্তমান ছাত্র ) জাইদ আহমেদ ( নির্দিষ্ট কলেজের বর্তমান ছাত্র ) । ঘটনাটি ঘটে সাউথ সিটি ল কলেজের ভিতরে।ঘটনার দিন সন্ধ্যে ৭:২০ থেকে রাত ১০:৫০ পর্যন্ত উক্ত কলেজের নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে দরজা বন্ধ করে নির্যাতিতার ওপর অমানবিক অত্যাচার করে এই তিনজন । সেদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলে পিনাকী ব্যানার্জী । তাঁকে ঘরের বাইরে বের করে দেওয়া হয় । নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী গার্ডের কিছু করার ছিলনা , যদিও সেটা তদন্ত সাপেক্ষ । আর তাই আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই নিরাপত্তাকর্মী পিনাকী ব্যানার্জি কে । নির্যাতিতা বাধা দিতে গিয়ে অসুস্থ বোধ করলে তাদের অনুরোধ করে যে তাঁকে কোনও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যে কিন্তু তার অনুরোধ রাখা হয়নি । সেই অবস্থাতেই ইনহেলার নিয়ে একটু সুস্থ বোধ করলে সে বাড়ি যাওয়ার জন্যে বেরোতে গেলে তাঁকে জোর করে ওই ঘরে নিয়ে গিয়ে নারীত্বের চরম অবমাননা করা হয় ।গনধর্ষণের শিকার হয় সে ।মনুষ্যত্বের মুখোশ খুলে এক নারী কে নগ্ন করে উদযাপিত হয় ক্ষমতার উৎসব ।
অভিযুক্ত দের মধ্যে একজন মনোজিৎ মিশ্র, যার সামাজিক প্রোফাইল এ সবার আগে লেখা রয়েছে “ Former president of south kolkata law college ( TMCP unit ) । আবার খুব সহজেই জড়িয়ে পড়েছে শাসক দলের নাম । শাসকদলের বেশ কিছু নেতা নেত্রী দের সাথে মনোজিতের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে , আর তাতেই আরও চাপের মুখে পড়েছেন শাসক দল ।
এখন প্রশ্ন উঠছে বার বার কেন এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে শাসক দলের নাম । নারী সুরক্ষা নিয়ে কি এত টুকু ও সতর্ক হয়েছে সরকার ?
নিজের শহরে , নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , নিজের কর্মস্থলে মেয়ে রা কি তাহলে যাবেনা ? সমাজের এই অবক্ষয়ের দায় কে নেবে ? আইনের একজন ছাত্রীর যদি এই পরিণতি হয় তাহলে আইন কাদের জন্যে ? প্রধান তিন অভিযুক্ত একজন আইনজীবী, বাকি দুজন আইনের ছাত্র ; এটা কি আইনের চরম অবমাননা নয় ? যাদের ওপর সাধারণ মানুষ ভরসা করে ন্যায় বিচারের পথে চলে , যাদের ওপর সংবিধানের প্রতিটি শব্দের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব তাদের এমন অপরাধমূলক মানসিকতা কেন ?
বলা হয় যে শিক্ষার কোনও বিকল্প হয়না । কিন্তু এ কোন শিক্ষিত সমাজ যেখানে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় দর্পের সাথে প্রদর্শন করা হয় ।
তিনজন অভিযুক্ত ও একজন নিরাপত্তারক্ষী কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । নির্যাতিতার শারিরীক পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে । তদন্ত চলছে হয়তো আবার ও সুবিচারের আশায় ।
Report By : Piyali Mukherjee Dasgupta, Headlines 24×7 , Kolkata









