উত্তরপ্রদেশের দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বিখ্যাত গল্প *হোম কামিং* বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়। এই ইস্যুতে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, কিন্তু তাঁর সেই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী যে ধরনের কৌশলী ও পরোক্ষ জবাব দেন, তা কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ারই সামিল। মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দায়ভার রাজ্য সরকারের ওপর—অর্থাৎ, রবীন্দ্রনাথের রচনা পাঠ্যক্রমে থাকবে কি না, তা নাকি জানে উত্তরপ্রদেশ সরকারই। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উত্তরকে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ ধাঁচের বলে আখ্যা দিয়েছেন ঋতব্রত, এবং প্রকাশ্যেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যে দেশের জাতীয় কবি, নোবেলজয়ী এবং ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঠ্যক্রমে থাকবেন কি না, তা কেন্দ্রীয় সরকার জানে না—এটাই কি তবে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি! তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি রবীন্দ্রনাথকে ভয় পায়, কারণ রবীন্দ্রনাথ মানে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতাবাদ এবং জাতীয়তাবাদের প্রকৃত রূপ, যা বিজেপির সংকীর্ণ ও বিভাজনমুখী রাজনীতির পরিপন্থী। তাঁর মতে, বাংলা ও বাঙালির প্রতি বিজেপির যে মৌলিক বিদ্বেষ, সেই মনোভাব থেকেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে, যার পরিণতিতে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে স্কুলের ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ পড়েছে *হোম কামিং*–এর মতো এক অমর সাহিত্যকর্ম। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু রবীন্দ্রনাথ বা বাংলার অবমাননা নয়, বরং দেশের সার্বিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঘাত করার নামান্তর।









