গোটা পরিবারটি বাঙালি—এই পরিচয়ই যেন এখন তাদের অপরাধ! এরাজ্য, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গেই তাঁদের শিকড়, ভাষা, সংস্কৃতি, আবেগ—সব কিছুই জুড়ে রয়েছে বাংলাকে ঘিরে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে নিজেদের মধ্যে বাংলা ভাষায় কথাবার্তা বলেন তাঁরা। কিন্তু এই ভাষাগত পরিচয়ই কি তাঁদের অপরাধের কারণ হয়ে দাঁড়াল? এমনই প্রশ্ন উঠছে বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ডে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে। অভিযোগ, সামান্য কথাকাটির জেরে প্রতিবেশীর সঙ্গে বচসায় জড়ানোর পরই পুলিশ সেখানে গিয়ে একেবারে বেধড়ক মারধর করে ওই পরিবারের উপর, যাঁদের কর্তা কিরণ সিংহরায়—একজন অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ কর্মী। মারধরের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, পরিবারের অষ্টাদশী কন্যা—যিনি ডাক্তারি পড়েন—বর্তমানে গুরুতর আহত হয়ে শয্যাশায়ী। তাঁর অভিযোগ, মায়ের উপর পুলিশ যখন হামলা চালাচ্ছিল, তখন তাঁকে বাঁচাতে গেলে পুলিশ কর্মীরা তাঁকেও আঘাত করে, এমনকি তাঁর গোপনাঙ্গে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। নৃশংস এই হামলার পরে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দেরাদুন ছেড়ে ফিরে আসে পশ্চিমবঙ্গের সোদপুরে তাঁদের পৈতৃক ভিটেতে। এই ঘটনায় শুধু প্রতিবেশীরই নয়, সেই সঙ্গে যুক্ত পুলিশদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে চিঠি পাঠিয়েছেন কিরণ সিংহরায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে কিরণবাবু কর্মসূত্রে সপরিবারে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের জি-৩, রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রী সন্তোষ সিংহরায় পেশায় শিক্ষিকা এবং দীর্ঘদিন ধরেই দেরাদুনে থাকতেন। কিন্তু পুলিশের অমানবিক আচরণ, জাতিগত বিদ্বেষ ও ভয়ঙ্কর নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তাঁদের বাধ্য করেছে ঘরের মাটি ছেড়ে নিরাপত্তার খোঁজে ফের নিজের রাজ্যে ফিরে আসতে। এই ঘটনা শুধুই একটি পরিবারের উপর ঘটে যাওয়া নিপীড়ন নয়, বরং এটি এক বৃহত্তর সামাজিক সংকেত বহন করে—যেখানে ভাষা, পরিচয় ও সংস্কৃতিগত পার্থক্য মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, এমন আশঙ্কাই প্রকট হয়ে উঠেছে।









